বর্ষায় গৃহবন্দী থাকে শতাধিক পরিবার

বটিয়াঘাটায় তিন গ্রামের একমাত্র সড়ক মরণফাঁদে পরিণত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কল্যানশ্রী, খড়িশাল ও ছত্রবীলা তিন গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। স্বাধীনতার পর থেকে অবহেলিত এসব গ্রামের শতাধিক পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও হাঁটুপানিতে সড়কটি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কল্যানশ্রী গ্রামের ছত্রবীলা পাড়া থেকে খড়িয়াল মৌজা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি তিন গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে জমে যায় পানি ও কাদা। ফলে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক মানুষসহ সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কাদা-পানিতে পিছলে পড়ে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্ত নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতির আর বাস্তবায়ন হয় না। বছরের পর বছর বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন ও অভিযোগ করেও সড়কটির স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম গোলদার (নুরো) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য আবেদন-অভিযোগ করতে করতে আর কোনো জায়গা বাকি নেই। জনপ্রতিনিধিরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যান। বর্ষা এলেই কাদা-পানির কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া তো দূরের কথা, বাড়ি থেকে বের করাই দুঃসাধ্য হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে এই সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করাও কঠিন। কৃষক রাহিদুল ইসলাম বলেন, শুকনো মৌসুমে এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সবজি, কাঁচামাল বহন করা হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে কোন কিছুই সম্ভব হয়না।

গৃহিণী রুনা বেগম জানান, বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ হয় ছেলে-মেয়ে নিয়ে স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা নিজেরাই চলাচল করতে পারিনা। সেখানে শিশুরা কীভাবে চলাচল করবে। শিক্ষার্থী মারজিনা আক্তার মিম জানায়, কাদা পানির মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় বই খাতা নিয়ে রাস্তায় পড়ে যাই।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্ভোগে তারা এখন চরম হতাশ। বর্ষায় তিন গ্রামের মানুষের অনেকটা গৃহবন্দী জীবন কাটাতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কে জাকির হোসেন লিটু বলেন, যেসব রাস্তাগুলো অসমাপ্ত রয়েছে, সেসব রাস্তার কাজ আগামী অর্থ বছরে করা হবে। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিন গ্রামের মানুষের দুর্দশা বিবেচনায় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন